আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ( সকাল ১০:৪২ )
  • ২১ জানুয়ারি২০১৮
  • ৩ জমাদিউল-আউয়াল১৪৩৯
  • ৮ মাঘ১৪২৪ ( শীতকাল )

অনলাইনে আছেন

২ জন অতিথি      

»

সেরা ১০ জন

  • রাহাতুল ইসলাম (1980 পয়েন্ট)
  • Palash Da (1947 পয়েন্ট)
  • কানন (1884 পয়েন্ট)
  • রিয়াদ (1731 পয়েন্ট)
  • স্বল্প জ্ঞানী (1341 পয়েন্ট)
  • চৌধুরী রেজাউল হায়দার (1001 পয়েন্ট)
  • kamal6116 (911 পয়েন্ট)
  • ismailuae09 (900 পয়েন্ট)
  • রাকিব উদ্দিন চৌধুরী (860 পয়েন্ট)
  • আহমেদ জে. রাসেল (857 পয়েন্ট)

নতুন আসলেন যারা

;.
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭
;.
নভেম্বর ১৫, ২০১৭
;.
আগস্ট ১৪, ২০১৭
;.
আগস্ট ২, ২০১৭
;.
জুলাই ২১, ২০১৭

আজকে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি তারা কয়জন জানি যে আজ তার জম্মদিন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মাদ আতাউল গনি ওসমানী (এমএজি ওসমানী) ৯৫তম জন্মবার্ষিকী।

 

Gen-MAG-Osmani-1918-1984

ওসমানীর পৈতৃক বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার (বর্তমানে ওসমানীনগর থানা) দয়ামীরে। তার বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মা জোবেদা খাতুন। খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ওসমানী। ওসমানীর জন্মের প্রাক্কালে ১৯১৮ সালে খান বাহাদুর মফিজুর রহমান তৎকালীন আসামের সুনামগঞ্জ সদর মহকুমায় সাব-ডিভিশনাল অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

 

তাদের বসবাস ছিল সুনামগঞ্জ সদরেই। এখানেই জন্ম হয় ওসমানীর।

 

১৯২৩ সালে গোহাটির `কটনস্ স্কুল অব আসাম`-এ ভর্তি হয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়৷ ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন তিনি। তৎকালীন সিলেটের এ স্কুলটি `ক্যালকাটা ইউনিভর্সিটির` অধীনে ছিল৷  মেট্রিক পাস করার পর তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

 

১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে ওসমানী বৃটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি দেরাদুন থেকে সামরিক শিক্ষা সমাপ্ত করে বৃটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশনপ্রাপ্ত হন।

 

এরপর দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন।

 

মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে সামরিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

 

বিশ্বযুদ্ধ শেষে দেশবিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর ওসমানী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এ সময় তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল।

 

বীর সৈনিক এমএজি ওসমানী পৃথিবীর ইতিহাসের অনেকগুলো যুদ্ধেই সক্রিয় অংশ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন। ১৯৬৬ সালের মে মাসে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসরকালীন ছুটি নেন এবং পরের বছর (১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন৷

 

পরবর্তী সময়ে তার চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আসে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। রাজনীতিতে নেমেই পেলেন ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনকারী ১৯৭০ সালের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সিলেটের চারটি থানা নিয়ে গঠিত উভয় পাকিস্তানের সর্ব-বৃহৎ নির্বাচনী এলাকা থেকে জয় লাভ করেন তিনি।

 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ‘কালরাতে’ ঢাকাতেই ছিলেন এমএজি ওসমানী৷ পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বছর চারেক আগে অবসর নেওয়া ওসমানীর সামরিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে পাকিস্তান সরকার অবগত ছিল। তাই ওই রাতেই ওসমানীকে হত্যার চেষ্টায় হন্যে হয়ে খোঁজে পাকবাহিনীর একটি কমান্ডো৷ কিন্তু একেবারেই ভাগ্যগুণে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল ওসমানী। পরের চার দিন ঢাকাতেই আত্মগোপনে থেকে পঞ্চম দিনে নদীপথে পালিয়ে গিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যুদ্ধরত ব্যাটেলিয়নদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। শুরু হয় ওসমানীর জীবনের নতুন আরেক অধ্যায়।

 

১১ এপ্রিল (১৯৭১) প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভাষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এমএজি ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

 

১২ এপ্রিল থেকে এমএজি ওসমানী মন্ত্রীর সমমর্যাদায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রণনীতির কৌশল হিসেবে প্রথমেই তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নেন এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন।

 

মে মাসের পর তার মনে হয় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শত্রুকে ছাউনিতে আটকে রাখা গেলেও ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এ বিষয়টি তিনি সরকারকে জানিয়ে যুদ্ধে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। প্রাক্তন ইপিআর এর বাঙালি সদস্য, আনসার, মোজাহেদ, পুলিশ বাহিনী ও যুবকদের নিয়ে একটি গণবাহিনী বা গেরিলাবাহিনী গঠন করেন তিনি।

 

৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানী বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরকি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

 

বৃদ্ধ বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালীন ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এমএজি ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়।

 

তার নামে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে ‘ওসমানী উদ্যান’ ও স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিপরীতে ‘ওসমানী মেমোরিয়াল হল’। তার সিলেট বাসভবনকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া  সরকারি উদ্যোগে সিলেট শহরে তার নামে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

একজন লেখকের জন্য পাঠকের মন্তব্য অনেক গুরুত্বপুর্ন। আশা করি আপনারা এই লেখাটি নিয়ে আপনাদের মতামত জানাবেন।

পোষ্টটি লিখেছেন: ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া

( 4 বছর 5 মাস 22 দিন ধরে ফেনী ব্লগে আছেন।)

ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া এই ব্লগে 17 টি পোষ্ট লিখেছেন .

A student of Information & Communication Technology (ICT), Bangladesh University of Engineering Technology, (BUET). Home district : Feni.

FavoriteLoadingপ্রিয়তে নিন
5.00 avg. rating (96% score) - 1 vote

৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে আজকে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি তারা কয়জন জানি যে আজ তার জম্মদিন।

মন্তব্য করুন